ঘটনার বিস্তারিত
বাংলাদেশে অনলাইন ব্যবসার বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তরুণ উদ্যোক্তাদের নতুন নতুন সাফল্যের গল্প সামনে আসছে। তেমনই এক উদাহরণ টাঙ্গাইলের তরুণ উদ্যোক্তা নাজিম ইমতিয়াজ জয়। সীমিত সম্পদ ও নানা প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তিনি ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন নিজের অনলাইন ব্যবসার পরিধি।
নাজিম বর্তমানে “গুলবাহার”, “Lamiya Fashion Zone” এবং “চিরকুটওয়ালী”সহ কয়েকটি জনপ্রিয় অনলাইন পেজ পরিচালনা করছেন। ২০১৯ সালে মাত্র একটি ফেসবুক পেজ এবং প্রায় সাত হাজার অনুসারী নিয়ে শুরু হয়েছিল তার উদ্যোক্তা জীবনের যাত্রা। শুরুতে এই পথ মোটেও সহজ ছিল না। জীবনের বাস্তব প্রয়োজন মেটাতে তাকে করতে হয়েছে বিভিন্ন ধরনের কাজ।
কখনো গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করেছেন, কখনো প্রিন্টিং অফিসে চাকরি করেছেন। এমনকি কিছু সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্যান্ট বিক্রি করেও জীবিকা নির্বাহ করতে হয়েছে। সে সময় দিনে প্রায় ১৫০ টাকা আয় করেই দিন কাটাতে হতো। তবে এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।
নাজিমের বিশ্বাস ছিল—অদম্য চেষ্টা এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি ধীরে ধীরে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নিজের ব্যবসার ভিত্তি তৈরি করতে শুরু করেন।
প্রেক্ষাপট
গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে ই-কমার্স এবং ফেসবুকভিত্তিক অনলাইন ব্যবসার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। অনেক তরুণ উদ্যোক্তা স্বল্প মূলধন নিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ব্যবসা শুরু করছেন। এই প্রেক্ষাপটে নাজিমের উদ্যোক্তা হওয়ার গল্পটি একটি বাস্তব উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
প্রাথমিক পর্যায়ে পরিবার থেকে খুব বেশি সমর্থন না পেলেও কিছু ঘনিষ্ঠ মানুষ তাকে উৎসাহ দিয়েছেন। নাজিমের জীবনের কাছের মানুষ লামিয়া, বন্ধু আরিফ আশরাফুল সাকিব, মামা শবুজ সাব্বির রোমন, পারভেজ মামা এবং তার মা নীরবে তাকে সহযোগিতা করেছেন বলে জানা যায়। এমনকি এক পর্যায়ে তার মা গোপনে ব্যাংক থেকে টাকা তুলে তাকে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জুগিয়েছিলেন।
এই ধরনের ব্যক্তিগত সমর্থন অনেক উদ্যোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, বিশেষ করে যখন শুরুতে আর্থিক বা সামাজিক বাধা থাকে।
কাজের পরিধি ও প্রভাব
বর্তমানে নাজিম ইমতিয়াজ জয় একাধিক অনলাইন পেজ পরিচালনা করছেন এবং তার সঙ্গে প্রায় ২১ জন মডারেটর কাজ করছেন। ধীরে ধীরে তার ব্যবসা একটি ছোট উদ্যোগ থেকে একটি সংগঠিত অনলাইন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।
তার পরিচালিত পেজগুলোর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের উপহার সামগ্রী, ফ্যাশন পণ্য এবং কাস্টমাইজড গিফ্ট প্যাকেজ সরবরাহ করা হয়। অনলাইন গিফ্ট প্যাকেজিং সেবাটি বিশেষ করে তরুণ ক্রেতাদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু একটি ব্যবসা নয়, কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। অনলাইন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত মডারেটর, ডেলিভারি কর্মী এবং বিভিন্ন সহযোগী সেবার মাধ্যমে আরও অনেক মানুষ পরোক্ষভাবে উপকৃত হচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোক্তা উদ্যোগ স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, কারণ এটি ডিজিটাল ব্যবসার প্রসার এবং তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার আগ্রহ বাড়াতে সাহায্য করে।
নাজিম ইমতিয়াজ জয় বর্তমানে মোট আটটি অনলাইন পেজ পরিচালনা করছেন এবং তার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে একটি সক্রিয় টিম। তিনি জানান, ভবিষ্যতে অনলাইন ব্যবসার পাশাপাশি অফলাইন পর্যায়েও কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে খুব শিগগিরই ঢাকার নিউমার্কেট এলাকায় একটি ফিজিক্যাল দোকান চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে গ্রাহকরা সরাসরি পণ্য দেখার পাশাপাশি অনলাইন অর্ডার সেবাও গ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উপসংহার
সীমিত সম্পদ থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে সফলতার পথে এগিয়ে যাওয়া নাজিম ইমতিয়াজ জয়ের গল্প অনেক তরুণ উদ্যোক্তার জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঠিক ব্যবহার, ধৈর্য এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি ছোট উদ্যোগও বড় পরিসরে পৌঁছাতে পারে—এই বাস্তবতা তার যাত্রাপথে প্রতিফলিত হয়েছে।
বর্তমান ডিজিটাল অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের উদ্যোগ তরুণদের উদ্যোক্তা হওয়ার নতুন সম্ভাবনা ও পথ নির্দেশ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
|
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ 







