বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের হাওয়া তুলতে এগিয়ে এসেছেন তরুণ উদ্যোক্তা আসাদুল আশরাফী, যিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন অনলাইন শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম ‘MindMela’। তার লক্ষ্য—শিক্ষার্থীদের শেখার অভিজ্ঞতাকে শুধু সহজ নয়, বরং বাস্তবমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তোলা। শিক্ষা-মনোবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার অনন্য সমন্বয়ে তিনি MindMela-কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এমন এক মিশনে, যা উচ্চমানের শিক্ষা সবার কাছে সহজলভ্য, বাস্তবমুখী ও ভবিষ্যতগামী করে তুলবে। তরুণ আশরাফী’র কাছে যেন বড় ব্যক্তিরাও হার মানতে বাধ্য শুধু তার সৃজনশীল চিন্তাধারা, মেধা এবং সঠিক নেতৃত্বের কারণে।
শৈশব ও শিক্ষাজীবন
আসাদুল আশরাফী ২০০৯ সালের ২৮ নভেম্বর, বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের পটুয়াখালী জেলার কমলাপুর ইউনিয়নের বাহেরমৌজ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। গ্রামে জন্ম হলেও তিনি বড় হয়েছেন ঢাকার মোহাম্মদপুরে। চার বছর বয়সে ‘সাত মসজিদ আইডিয়াল ইনস্টিটিউট’-এ প্লে ক্লাসে ভর্তি হন। পরে একই প্রতিষ্ঠানের আরেক শাখা ‘চাঁদ উদ্যান মডেল একাডেমি’তে দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হন। এরপর ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রিয় বিদ্যালয় ‘ফিরোজা বাশার আইডিয়াল কলেজ (FBIC)’-এ অধ্যয়ন শুরু করেন। ২০২১ সালের ৫ মে, তার জীবনে এক গভীর দুঃখের দিন আসে — তার পিতা সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। এরপর পরিবারসহ তিনি গ্রামে ফিরে আসেন এবং নানা বাড়ীর একটি প্রতিষ্ঠান বাঁশবাড়িয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। বর্তমানে তিনি ঐ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র এবং ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।
MindMela-এর জন্ম
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মধ্যে সঠিক সংযোগের অভাব থেকে জন্ম নেয় MindMela—একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে শিক্ষার্থীরা সহজে পায় মানসম্মত, পরীক্ষাভিত্তিক কনটেন্ট, আর শিক্ষকরা পান উপস্থাপনার আধুনিক টুলস। আশরাফীর নেতৃত্বে MindMela এখন বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নবতর বিপ্লবের প্রতীক।
তাঁর বক্তব্য
তিনি (আসাদুল আশরাফী) MindMela সম্পর্কে বলেছেন “MindMela কে এগিয়ে নিতে বিশেষ অবদান রেখেছেন আমার শিক্ষক জনাব তাপশ কুমার স্যার। তাপশ স্যারের অবদান অতুলনীয় তিনি আমাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন। এবং একইসাথে তিনি মাইন্ডমেলার একাডেমিক হেড। আমাদের টিচার প্যানেলে রয়েছেন আমার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিবর্গ তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হলেন: মোঃ সোহান তালুকদার (ময়মনসিংহ বিশ্ববিদ্যালয়), মোঃ আসিবুর রহমান (কুয়েট) এবং মোঃ শরীফ ইসলাম তাদের অবদান রয়েছে MindMela কে গ্রো করতে। এবং আমার ২ বন্ধু মো: নাইমুল ইসলাম এবং রাকেশ শিকারী আমাকে উল্লেখযোগ্যভাবে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। আশাকরি আমাদের সকলে একসঙ্গে কাজ করে এই প্রতিষ্ঠানকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাব ইনশা-আল্লাহ।” আসাদুল আশরাফী আরো বলেছেন, যদি কোনো ব্যক্তি আমাদের সাথে যুক্ত হতে আগ্রহী থাকে তাহলে সেই সুযোগ আমরা রেখেছি তবে হতে হবে প্রখর মেধাবী এবং সৃজনশীল ব্যক্তি।
প্রযুক্তিগত দক্ষতা
ক্ষুদে শিক্ষাবিদ পরিচয়ের পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ ও অ্যান্ড্রয়েড ROM ডেভেলপার। সিস্টেম সিকিউরিটি, থ্রেট মডেলিং, এবং পারফরম্যান্স অপ্টিমাইজেশনে তার গভীর দক্ষতা রয়েছে।অ্যান্ড্রয়েডের লো-লেভেল ডেভেলপমেন্টে পারদর্শিতার পাশাপাশি সে একজন কবি সাহিত্যিক ছিলেন।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
তার স্বপ্ন—বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET)-এর cse ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়ে বিশ্বমানের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া, গুগলে কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন করা, এবং একদিন বাংলাদেশের তরুণ মেধাবীদের নিয়ে একটি গ্লোবাল সফটওয়্যার কোম্পানি গড়ে তোলা। একটি বাংলাদেশভিত্তিক সফটওয়্যার কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা, যা স্থানীয় মেধাবীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে বিশ্বমানের পণ্য তৈরি করবে এবং দেশে মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
মিশন ও দর্শন
আসাদুল আশরাফীর মিশন একটাই—বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন উচ্চমানের, শিক্ষক-নেতৃত্বাধীন, পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষা সহজে পায় এবং মুখস্থ ও গতানুগতিক শিক্ষাকে না বলে সৃজনশীল বা ক্রিয়েটিভিটিতে এগিয়ে থাকে। তার বিশ্বাস, প্রযুক্তি ও মানবিক নেতৃত্বের সমন্বয়ে গড়ে উঠবে এমন এক ভবিষ্যৎ, যেখানে শিক্ষা হবে সবার অধিকার, বিলাসিতা নয়।