ঘটনার বিস্তারিত
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণদের মধ্যে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যবসা এখন অনেকের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ তৈরি করছে। এমনই একটি উদ্যোগ হলো ঠাকুরগাঁও থেকে পরিচালিত অনলাইন পেজ “MUJA Lagbe?”।
উদ্যোগটির শুরুটা ছিল খুবই ছোট পরিসরে। উদ্যোক্তার ভাষ্যমতে, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কিছু অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে মাত্র ১০০ টাকার তিন জোড়া মোজা বিক্রির মাধ্যমে এই ব্যবসা শুরু করা হয়। তখন এটি বড় কোনো ব্যবসায় পরিণত হবে—এমন প্রত্যাশা ছিল না।
ধীরে ধীরে স্থানীয় পরিচিতজন ও বন্ধুদের মাধ্যমে পেজটির প্রচার বাড়তে থাকে। উদ্যোক্তা জানান, পেজটি চালুর পর থেকে কাউকে সরাসরি অনুসরণ বা ফলো করার অনুরোধ জানানো হয়নি। বরং গ্রাহকদের অভিজ্ঞতা ও মুখে মুখে প্রচারের মাধ্যমে পেজটির অর্গানিক গ্রোথ হয়েছে।
বর্তমানে এই পেজে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫টি অর্ডার আসে বলে জানা গেছে। শুধু ঠাকুরগাঁও শহর নয়, আশপাশের গ্রাম থেকেও গ্রাহকেরা অনলাইনে অর্ডার দেন। কেউ কেউ আবার সরাসরি এসে পণ্য দেখে কিনে নিয়ে যান।
প্রেক্ষাপট
বাংলাদেশে ফেসবুকভিত্তিক ছোট ব্যবসা বর্তমানে অনেক তরুণ উদ্যোক্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্থানীয় বাজারে কম দামে প্রয়োজনীয় পোশাক বা লাইফস্টাইল পণ্য সরবরাহ করে অনেকেই ছোট উদ্যোগকে ধীরে ধীরে বড় ব্যবসায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
“MUJA Lagbe?” উদ্যোগটির ক্ষেত্রেও একই প্রবণতা দেখা যায়। প্রথমে শুধু মোজা বিক্রির মাধ্যমে শুরু হলেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে অন্যান্য পোশাক যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে মোজার পাশাপাশি ৩৯৯ টাকার হুডি, শার্ট, প্যান্ট এবং টি-শার্টও বিক্রি করা হচ্ছে বলে উদ্যোক্তা জানান।
এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় বাজারে কম দামে পণ্য পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে স্বনির্ভরতার ধারণা শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।
কাজের পরিধি ও প্রভাব
উদ্যোক্তার মতে, গ্রাহকদের আস্থা অর্জনের জন্য পণ্যের বাস্তব ভিডিও বা “রিয়েল ভিডিও” ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে গ্রাহকেরা সহজেই পণ্যের মান ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা পান।
এই উদ্যোগের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—শুরুর দিকে যারা গ্রাহক ছিলেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ পরে নিজেরাও নতুন পেজ খুলে ব্যবসা শুরু করেছেন। উদ্যোক্তা এটিকে ইতিবাচক একটি পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে এ ধরনের উদ্যোগ নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে অনুপ্রেরণা দিতে পারে। একই সঙ্গে ছোট ব্যবসার মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও কিছুটা গতিশীল হয়।
“MUJA Lagbe?” উদ্যোগটি প্রথমে ১০০ টাকার তিন জোড়া মোজা দিয়ে শুরু হয়। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ১০–১৫টি অর্ডার আসে বলে উদ্যোক্তা জানিয়েছেন। ঠাকুরগাঁও শহরের পাশাপাশি আশপাশের গ্রাম থেকেও অর্ডার পাওয়া যাচ্ছে। মোজা ছাড়াও এখন হুডি, শার্ট, প্যান্ট ও টি-শার্টসহ বিভিন্ন পোশাক কম দামে সরবরাহ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উদ্যোক্তার মতে, গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখে ভবিষ্যতে উদ্যোগটি আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
উপসংহার
ছোট পরিসরে শুরু হওয়া অনেক উদ্যোগই সময়ের সঙ্গে বড় আকার ধারণ করতে পারে—যদি সেখানে ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং গ্রাহকের আস্থা বজায় থাকে। ঠাকুরগাঁওয়ের “MUJA Lagbe?” উদ্যোগটি সেই ধরনের একটি উদাহরণ হিসেবে ধীরে ধীরে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি পাচ্ছে।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে তরুণদের ক্ষুদ্র ব্যবসা শুরু করার প্রবণতা বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। উদ্যোক্তার ভাষ্যমতে, সবাই পাশে থাকলে এই উদ্যোগকে সামনে আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
|
৩০ এপ্রিল, ২০২৬ 







