
প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে তরুণ প্রজন্মের অনেকেই যেখানে সোশ্যাল মিডিয়াকে শুধু বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে, সেখানে কিছু তরুণ এর মধ্য দিয়ে নিজেদের দক্ষতা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে এক নতুন দিগন্তে। এমনই একজন উদ্যমী তরুণ হলেন মোঃ অপু, যিনি রাণীশংকৈল উপজেলার এক প্রেরণাদায়ক মুখ হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
শিক্ষাজীবনের শুরু ও আগ্রহের উৎস
মোঃ অপু ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল থানার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে রাণীশংকৈল ডিগ্রী কলেজের অনার্স বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। সম্প্রতি প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ করেছেন এবং এখন ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন। ছোটবেলা থেকেই তিনি ছিলেন কৌতূহলী ও শেখার আগ্রহে ভরপুর। প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ থেকেই তার সাইবার দুনিয়ায় প্রবেশ।
তিনি বলেন, “আমি যখন প্রথম স্মার্টফোন ব্যবহার শুরু করি, তখন থেকেই ভাবতাম—এই ইন্টারনেট জগৎটা কিভাবে কাজ করে, মানুষ কীভাবে এখানে সফলতা অর্জন করে। সেখান থেকেই শুরু আমার যাত্রা।”
সাইবার জগতে পদার্পণ ও অভিজ্ঞতা
২০২০ সালে তিনি প্রথম সাইবার ও সোশ্যাল মিডিয়া সংক্রান্ত কাজের সঙ্গে যুক্ত হন। শুরুটা ছিল নিজের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষা ও প্রযুক্তি শেখার মধ্য দিয়ে। ধীরে ধীরে তিনি বিভিন্ন অনলাইন কমিউনিটিতে যুক্ত হন এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতে (Facebook, YouTube, Instagram, TikTok ইত্যাদি) একটিভভাবে কাজ করতে থাকেন।
তার মূল কাজের ক্ষেত্র ছিল —
সাইবার সিকিউরিটি ও সোশ্যাল মিডিয়া নিরাপত্তা,
একাউন্ট রিকভারি ও ডিজিটাল প্রোটেকশন,
কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট,
ডিজিটাল মার্কেটিং ও অনলাইন ব্র্যান্ডিং ইত্যাদি।
এই কাজগুলোর পাশাপাশি তিনি নিয়মিত নতুন নতুন ট্রেন্ড ও প্রযুক্তি শেখার চেষ্টা করেন, যাতে তিনি আপডেট থাকতে পারেন এবং অন্যদের সহায়তা করতে পারেন।
সোশ্যাল মিডিয়া সচেতনতার প্রচারক
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা রকম প্রতারণা ও হ্যাকিংয়ের ঘটনা বেড়ে চলেছে। মোঃ অপু মনে করেন, তরুণদের প্রযুক্তি ব্যবহার শেখার পাশাপাশি সচেতন হওয়া জরুরি।
তিনি বলেন, “অনেকে না বুঝে এমন কিছু লিঙ্কে ক্লিক করে বসে, যা থেকে হ্যাকিং বা আইডি হারানোর মতো সমস্যা হয়। তাই আমি সবসময় চেষ্টা করি মানুষকে সচেতন করতে।”
তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোতেও নিয়মিত টিপস, তথ্য, এবং সচেতনতামূলক পোস্ট শেয়ার করেন, যা অনেক তরুণের উপকারে আসছে।
পড়ালেখা ও কাজের ভারসাম্য
অনার্সের পড়াশোনার পাশাপাশি সাইবার দুনিয়ার কাজ চালিয়ে যাওয়া সহজ নয়। তবে মোঃ অপু অত্যন্ত পরিশ্রমী ও সময়নিষ্ঠ একজন তরুণ।
তিনি বলেন, “আমি সময় ভাগ করে চলি। সকালে ক্লাস, বিকেলে পড়াশোনা এবং রাতে কিছুটা সময় অনলাইন কাজের জন্য রাখি। এতে পড়াশোনা ও কাজ—দুটোই এগিয়ে নিচ্ছি।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও স্বপ্ন
মোঃ অপু ভবিষ্যতে নিজেকে সাইবার সিকিউরিটি বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তিনি চান বাংলাদেশে তরুণ প্রজন্ম যেন সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল শিক্ষায় আরও উন্নত হয়।তিনি বলেন, “আমার লক্ষ্য হচ্ছে মানুষকে নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহারে সচেতন করা এবং দেশের ডিজিটাল রূপান্তরে ভূমিকা রাখা।”
তরুণদের প্রতি অনুপ্রেরণামূলক বার্তা
মোঃ অপু মনে করেন, “প্রত্যেক তরুণের উচিত নিজের সময়কে মূল্যায়ন করা। ইন্টারনেট শুধু বিনোদনের জায়গা নয়—এখানে শিক্ষা, কাজ, ও আত্মনির্ভরশীলতার অজস্র সুযোগ রয়েছে। যদি মন থেকে চেষ্টা করা যায়, তাহলে সফলতা একদিন আসবেই।”
তার এই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও অধ্যবসায় অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে। রাণীশংকৈল ও আশপাশের এলাকার তরুণরা তার কাছ থেকে সাইবার সংক্রান্ত নানা বিষয়ে দিকনির্দেশনা নিচ্ছেন।