ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা থানার ৬নং ওয়ার্ড হাজিরভিটা এলাকায় জন্ম নেওয়া মোহাম্মদ ইয়াসিন বর্তমানে দেশের অন্যতম তরুণ ইউটিউবার, ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল মার্কেটার হিসেবে পরিচিত। তার জন্ম ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০০০ সালে এবং বর্তমান বয়স ২৫ বছর। তার পিতা মো: মনির হোসেন একজন ব্যবসায়ী এবং মাতা মোছা: পারভিন আক্তার একজন গৃহিণী। তারা মোট ৩ ভাই বর্তমানে তার রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস (বিবাহিত)।
শৈশব থেকে ভিডিও কনটেন্টের প্রতি আগ্রহ ছোটবেলা থেকেই ভিডিও কনটেন্ট তৈরির প্রতি ইয়াসিনের গভীর আগ্রহ ছিল। বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, পরিবার এবং গ্রামবাংলার প্রকৃতি প্রায়ই তার কনটেন্টে ফুটে উঠত। ২০১৮ সালে তিনি ইউটিউবে ভিডিও তৈরি শুরু করেন। প্রথম দিকে ভিডিওগুলো ভাইরাল না হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। তিনি বলতেন, “আমি বিশ্বাস করি, একদিন এই ভিডিওগুলোই আমার স্বপ্ন পূরণ করবে।”
দৈনন্দিন জীবন ও পছন্দ
ইয়াসিনের শখের মধ্যে রয়েছে ভ্রমণ, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো, নতুন নতুন খাবার খাওয়া এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করা। তিনি বলেন, “প্রতিদিনের ছোট ছোট আনন্দই আমাকে নতুন কনটেন্ট তৈরি করতে অনুপ্রাণিত করে।” তার ফেভারিট খাবারের মধ্যে রয়েছে স্থানীয় মিষ্টি, ভাত–ডাল-সবজি এবং মাঝে মাঝে ফাস্টফুড। তিনি শারীরিকভাবে সচেতন থাকার জন্য নিয়মিত হাঁটাহাঁটি এবং হালকা ব্যায়াম করেন।
শিক্ষাগত যোগ্যতা :তিনি ২০১৮ সালে ভালুকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ssc পাস করেন। তারপর আর পড়ালেখা করা হয়নি সরাসরি কর্মজীবনে নেমে পড়েন।
প্রথম সাফল্য
চার বছরের ধারাবাহিক পরিশ্রমের পর, ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তার একটি ইউটিউব চ্যানেল এক লক্ষেরও বেশি সাবস্ক্রাইবার অর্জন করে। এটি ছিল তার জীবনের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত। এর পর থেকে তিনি পিছনে তাকাননি। ২০২৩ সালের নভেম্বরে তার জনপ্রিয় চ্যানেল “Eyasin Vlog 24” এক মিলিয়ন সাবস্ক্রাইবার স্পর্শ করে, যা প্রমাণ করে কঠোর পরিশ্রম ও ধৈর্য সবসময় সফলতার পথ তৈরি করে।
বড় ধাক্কা এবং নতুন পথে এগোনো
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে তার চ্যানেলটি ইউটিউব থেকে রিমুভ হয়ে যায়। তিনি বলেন, “এক মুহূর্তে মনে হলো আমার স্বপ্ন ভেঙে গেল। কিন্তু নিজেকে বললাম, হার মানলে চলবে না।” এই অভিজ্ঞতা তাকে নতুনভাবে গড়ে তোলে।
চ্যানেল হারানোর পর তিনি শর্টস কনটেন্ট, হিডেন ভিডিও কৌশল এবং ডিজিটাল মার্কেটিং-এ ঝুঁকে পড়েন। এখন প্রতি মাসে তিনি ১৫ থেকে ২০টি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে বিক্রি করেন, যেখানে প্রতিটি চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা এক লক্ষের বেশি। বাংলাদেশের পাশাপাশি পাকিস্তান, ভিয়েতনাম ও অন্যান্য দেশের ক্রেতারা তার চ্যানেল কিনে থাকেন। এর মাধ্যমে তিনি একটি শক্তিশালী ও টেকসই আয়ের উৎস তৈরি করেছেন।
তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা
মোহাম্মদ ইয়াসিন বিশ্বাস করেন, যে কেউ চাইলে ইউটিউব বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিজের ক্যারিয়ার তৈরি করতে পারে। তবে এর জন্য দরকার ধৈর্য, ধারাবাহিক পরিশ্রম এবং সঠিক পরিকল্পনা। তিনি বলেন:”প্রথমে ব্যর্থতা আসবে, কিন্তু হাল ছাড়বে না। শিখতে হবে—এডিটিং, মার্কেটিং, থাম্বনেইল সবকিছু। ইনকামের কথা ভেবে নয়, কনটেন্টের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করতে হবে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
ভবিষ্যতে তিনি চান বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মকে ইউটিউবার ও কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করতে। এছাড়া তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিজস্ব উদ্যোগ শুরু করার চিন্তাভাবনা করছেন। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তার স্বপ্ন একদিন বাংলাদেশকেও ইউটিউব ও ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে সারা বিশ্বের সামনে শক্ত অবস্থানে দাঁড় করানো।
ব্যক্তিত্ব ও মূল্যবোধ
ইয়াসিন একজন সাধারণ শহরের ছেলে হলেও তার জীবনকাহিনি প্রমাণ করে, ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মানুষ নিজের স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে। তিনি সবসময় বলেন, “জীবনে হাল না দিলে স্বপ্নের মৃত্যু হয় না।”
সমাপ্তি
মোহাম্মদ ইয়াসিনের জীবনকাহিনি হলো সংগ্রাম, ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাসের অসাধারণ উদাহরণ। একজন সাধারণ গ্রামবাংলার তরুণ কীভাবে ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজের পরিচয় তৈরি করতে পারে, তার জীবনী সেটাই প্রমাণ করে।