সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা পদে বিতর্কিত নারী; নেতাকর্মীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

রাজনীতি

বিশেষ প্রতিনিধি:

সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে মহিলা সম্পাদিকা পদে এক বিতর্কিত নারীকে পদায়িত করা নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এতে একদিকে যেমন দলের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, পাশাপাশি সাংগঠনিকভাবেও দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় নেতাদের উপস্থিতিতে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হলেও অসম্পূর্ণ থেকে যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। সম্প্রতি কেন্দ্রের নির্দেশে পূর্ণাঙ্গ কমিটি সম্পন্ন করতে কাজ শুরু করে দলের স্থানীয় নীতি-নির্ধারনী পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এরপর থেকেই উপজেলার আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদ পেতে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে দলীয় নেতাকর্মীরা। শুরু হয় লবিং আর তদবির। স্থানীয় পর্যায় থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে পালন করেন বিভিন্ন কর্মসূচী। অনেকে আবার কেন্দ্রীয় নেতাদের আশির্বাদপুষ্ঠের দোহাই দিয়ে স্বস্ব পদে নিজেকে যোগ্য নেতা বলে দাবী করেন। এমন অবস্থায় দলের কেন্দ্রীয় এক প্রভাবশালী নেতার দোহাই দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা পদে নিজের অবস্থান জানান দেন নানা ঘটনায় বিতর্কিত ও সমালোচিত নার্গিস আক্তার নামের এক নারী। অতীতে দলের কোন সাংগঠনিক কোন পদে না থাকলেও হঠাৎই উড়ে এসে জুড়ে বসে আওয়ামী লীগের মহিলা সম্পাদিকা পদটি দাবী করে বসেন তিনি। এ ঘটনায় দলের ভেতরেই মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্যাগী ও পরিক্ষিত নেতাদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভের। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের পাশাপাশি সাংগঠনিক দূর্বলতা দৃশ্যমান হয়ে দেখা দেবে বলে মনে করছেন অনেকেই।

উপজেলার ধামসোনা ইউনিয়নের প্রবীন এক আওয়ামী লীগ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান, নার্গিস আক্তার আসলে ছদ্মবেশী প্রতারক। তার ভয়ঙ্কর সব প্রতারণার কাহিনী সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। বিতর্কিত এ নারী একে একে ৬টি বিয়ে করে পরবর্তীতে ওই ছেলেদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। সমাজের বিত্তবান পরিবারের যুবক ছেলেদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেইল করে সর্বশান্ত করেছে। কিছু কিছু ঘটনায় ভূক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় নিলেও অনেকে আবার লোকলজ্জার ভয়ে বিষয়টি এড়িয়ে গেছেন। এরকম একজন মহিলাকে দলের মহিলা সম্পাদিকা করলে দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নের সম্মূখিন হবে বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগের এই প্রবীন নেতা।

সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই থানায় তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে যার পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। নার্গিস সাভার আশুলিয়ায় বিভিন্ন মানুষকে ব্লাক মেইল করে এই পর্যন্ত ৬জনকে বিয়ে করে বিপুল পরিমান টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
বিয়ের পরই মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে হয়রানী করে মামলা আপোষের নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়।

নার্গিস এর শিকার (১) লোকমান – কবিরপুর,
(২) জাহাঙ্গীর – রাজাসন
(৩) মিজান – ধামরাই

(৪)সৌরভ – পাথালিয়া
(৫) কামরুল – মির্জানগর
(৬) আজীম – জাহাঙ্গীর নগর।

গতকাল শুক্রবার (১০ জুলাই) মুঠোফোনে নার্গিস আক্তার নিজের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ কৌশলে এড়িয়ে গেলেও দলের সাংগঠনিক কোন কমিটিতে তিনি নেই বলে সাংবাদিকদের জানান। মুঠোফোনে তাঁর কাছে এবিষয়ে জানতে চাইলে তিনি একপর্যায়ে এই প্রতিবেদককে জানান তার বিরুদ্ধে এসব কিছু ষড়যন্ত্র। পরে বিস্তারিত জানার জন্য শনিবার এই প্রতিবেদককে তিনি তার বাড়িতে আসার জন্য বলেন। কিন্তু শনিবার (১১ জুলাই) তার মুঠোফোনে লাগাতার কল করা হলেও তিনি এই প্রতিবেদকের কল রিসিভ করেন নাই।

গতকাল শুক্রবার মুঠোফোনে সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসেস হাসিনা দৌলার নিকট এব্যাপারে জানার জন্য কল করা হলে তিনি জানান, ফোনে কথা বলতে তার ডাক্তার তাকে নিষেধ করেছেন, তাই কথা বলতে পারবেন না। এরপরই এই প্রতিবেদককে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন রেখে দেন তিনি।

এব্যাপারে, সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল আলম রাজীবের নিকট মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি এব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেন নাই।

মোঃ হুমায়ুন কবির

সত্য প্রকাশে অঙ্গীকারবধ্য একটি সংবাদ মাধ্যম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *