দেশবাসীর প্রতি ত্রান প্রতিমন্ত্রীর আহবান || দেশের সংবাদ

দেশের সংবাদ

বার্তা কক্ষঃ দেশ বাসীর প্রতি ত্রান প্রতিমন্ত্রীর আলহাজ্ব ডাক্তার এনামুর রহমান এমপি বলেছেনঃ

সম্মানিত প্রিয় দেশবাসী আসসালামু আলাইকুম। আজ মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকের পর মানবতার জননী,বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেছেন। আলোচ্য বিষয় ছিল নভেল করোনাভাইরাস।

এই প্রাণঘাতী ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষাপটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জননেত্রী শেখ হাসিনার সদয় আন্তরিক প্রচেষ্টায় চীনের উহান থেকে ৩১২ জন বাংলাদেশিকে তাদের কাতর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে ফিরিয়ে আনার পর বেশ কিছু জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

চীনের উহান থেকে আসা আকাশ প্রদীপ’ নামের বিমানের ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণের পর ‘ওই উড়োজাহাজকে ১২ ঘণ্টা ধরে স্প্রে করে ‘জীবাণুমুক্ত’ করা হয়েছে। তবে ওই উড়োজাহাজের চারজন ককপিট ক্রু ও ১১ জন কেবিন ক্রুকে অন্য দেশ ঢুকতে দিতে রাজি হচ্ছে না‌। যে কারণে অন্য কোনো পাইলটকে আবার চীনে পাঠানোর বিষয়ে প্রচন্ড ঝুঁকির মুখে পড়েছি আমরা।

অথচ সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক, সানিটাইজার, ডিসপোজেবল গাউনসহ বিভিন্ন সরঞ্জামও তাদের সঙ্গে দেওয়া হয়েছিল। চীনের উহানে থাকা আরো ১’শ ৭১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরতে চান। এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,জননেত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছেন। দূতাবাসকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। আমরা বলেছি, প্রয়োজনে প্লেন চার্টার করে আগ্রহী অবশিষ্ট দের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিতে।

আমাদের প্লেনের যে ক্রুরা চীনে গিয়েছিল, তাদেরকে অন্যান্য দেশ আপাতত ভিসা দিচ্ছে না। ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর “না” করে দিয়েছে। তারা বলেছে, যে ক্রুরা উহানে গিয়েছিলো তারা সিঙ্গাপুরের ঢুকতে পারবে না।

এখন পর্যন্ত আশাবাদী হবার মতো বার্তা হচ্ছে, চীন প্রত্যাগতদের মধ্যে শরীরে প্রচন্ড তাপমাত্রা নিয়ে যাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, তাদের নমুনা পরীক্ষা করে কারো শরীরেই করোনাভাইরাস পাওয়া যায়নি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন,যেভাবেই হোক,করোনাভাইরাস আমাদের দেশে ঢোকা প্রতিরোধ করতে হবে। চীন থেকে যারা ফিরবেন, তাদের অবশ্যই ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হবে। কারণ আমরা এটা নিয়ে তো ঝুঁকি নিতে পারিনা‌।

চীনের উহান থেকে যে ৩১২ জন এসেছেন তাদেরকে হজ ক্যাম্পে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। সেখানে খাওয়া-দাওয়া সবকিছু দেওয়া হচ্ছে। প্রথমদিকে তারা বোধহয় বুঝতে পারেননি, তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে। তাদের বোঝানো হলো, এটা তো হাইলি রিস্কি। কারণ কেউ একজন আক্রান্ত হলে, তার মাধ্যমে আগে আক্রান্ত হবে তার স্বজনরা। এভাবে পর্যায়ক্রমে অন্যান্যরা সংক্রমিত হলে হুমকির মুখে পড়বে জনস্বাস্থ্য।

এই ভাইরাসের এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিষেধক ও আবিষ্কৃত হয়নি। বিষয়টা তারা অনুধাবন করতে পেরেছে। আমরা আশ্বস্ত করে বলেছি,কারও মধ্যে ভাইরাস সংক্রমণের তথ্য পাওয়া না গেলেও কেবলমাত্র সাবধানতার অংশ হিসেবে ১৪ দিনের পর্যবেক্ষণে রাখার পর তাদের সকলকে ছেড়ে দেয়া হবে।

চীনের উহান শহরে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ শনাক্ত করা হয়। এরপর এক মাসে ৩৬২ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ছড়িয়েছে।

আবারো বলছি,নভেল করোনাভাইরাসের কোনো টিকা বা ভ্যাকসিন এখনো তৈরি হয়নি। ফলে আপাতত নিরাপদ থাকার একমাত্র উপায় হল, যারা ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং কিছু স্বাস্থ্য বিধি ও পরিচ্ছন্নতার নিয়ম কঠোরভাবে মেনে চলা।

মোঃ হুমায়ুন কবির

সত্য প্রকাশে অঙ্গীকারবধ্য একটি সংবাদ মাধ্যম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *