আবারো স্বামী শ্বশুর শাশুড়ী কর্তৃক নৃশংসভাবে খুন হলো ঢাবির মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়া

ক্রাইমনিউজ

স্টাফ রিপোর্টারঃ বর্তমান দেশের নর্থবেঙ্গলের নাটোরের গৃহবধূ ঢাকা ইউনিভার্সিটির মেধাবী ছাত্রীকে নৃশংসভাবে খুনের ঘটনায় গোটা নর্থবেঙ্গলসহ রাজধানী ঢাকাতেও চলছে শোকের মাতম। খোদ টিএসসির মোড়সহ ভার্সিটি ক্যাম্পাসেও চলছে মিটিং মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান। বছর খানেক পূর্বে নাটোর এলাকার হরিশপুরের বাগানবাড়ি এলাকার ভবঘুরে মোস্তাকের সাথ বিয়ে হয়। বিয়ের একসপ্তাহ না যেতেই সুমাইয়ার স্বামীসহ শ্বশুর কূলের সকলের হীন চেহারা ধিরে ধিরে উন্মোচিত হতে থাকে। কথায় কথায় অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ মারধর, ভার্সিটিতে যেতে বাঁধাদান, বেতন, টিউশিন ফি, যাতায়াত ভাড়া, হোস্টেল ফি কিছুই দিতো না তার স্বামীর বাড়ির লোকজন। ফলে পড়াশুনার সকল খরচ চালাতেন সুমাইয়ার বাবা। কিন্তু নির্মম নিয়তির কাছে গত সাত মাস আগে হেরে গেলেন সুমাইয়ার বাবা। অথৈ পাঁথারে পড়লেন সুমাইয়া। নাটোরের হরিশপুরে মেধাবী ছাত্রী সুমাইয়া বেগমকে হত্যার অভিযোগ করেছে তার পরিবারের সদস্যরা। সুমাইয়া নাটোর সদরের হরিশপুর বাগানবাড়ি এলাকার মোস্তাক হোসাইন এর স্ত্রী। সুমাইয়ার বাবার বাড়ির লোকজন জানান, সোমবার সকালে সুমাইয়ার শশুর জাকির হোসেন ফোন করে সুমাইয়ার মা নুজহাত কে বলেন তার মেয়ে অসুস্থ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে এসে দেখে যান। তখন পরিবারের লোকজন সবাই মিলে হাসপাতালে গিয়ে তার অথর মরদেহ দেখতে পায়। এসময় তার স্বামী মোস্তাক বা শ্বশুরবাড়ির কোন সদস্যকে সেখানে দেখা যায়নি। এ সময় তাদের সন্দেহ হলে তারা ঘটনাটি সদর থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশ এসে মরদেহটি সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পুলিশ জানায় সুমাইয়ার দেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তার পরিবারের লোকজন মামলা দায়ের করলেই তদন্ত শেষে বলা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। পুলিশ তদন্তের জন্য সুমাইয়ার শ্বশুরবাড়ি হরিশপুরের বাগানবাড়ি এলাকায় যায় সেখানে গিয়ে পরিবারের কোনো সদস্য কে পাওয়া যায়নি বলে জানায় পুলিশ। পুলিশ আরো জানায়, ধারণা করা হচ্ছে তারা পালিয়ে গেছে। সুমাইয়ার চাচা মোহাম্মদ আলী জানান, ২০১৯ সালের ১৪ এপ্রিল পরিণয় সূত্রে মোস্তাক হোসাইনের সাথে সুমাইয়ার বিয়ে হয়। সুমাইয়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিস বিভাগের ছাত্রী।

মোঃ হুমায়ুন কবির

সত্য প্রকাশে অঙ্গীকারবধ্য একটি সংবাদ মাধ্যম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *